জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে: ড. মোশাররফ

ঢাকা: ‘পূর্বের সকল জাতীয় নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে। কারণ নির্বাচনের কয়েকদিন আগে থেকে মাঠে সেনাবাহিনী থাকলে সাধারণ ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন’ জাতীয় নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের বিষয়ে বলেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দল আয়োজিত এক গোল টেবিল আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন । এসময় তিনি মন্তব্য করেন, আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠন ছাত্রলীগ রগ কাটা পার্টিতে পরিণত হয়েছে।
খন্দকার মোশাররফ বলেন, গাজীপুর ও খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচন ইসি ও সরকারের জন্য বড় পরীক্ষা। এই নির্বাচন কতটা নিরোপেক্ষভাবে করতে পারে সেটি দেখবে জনগণ। তারা যদি এই দুই সিটিতে সুষ্ঠু নির্বাচন নাকরতে পারে তাহলে প্রমাণিত হবে তাদের দিয়ে কোন সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। এসময় তিনি গাজীপুর ও খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনসহ সকল স্থানীয় নির্বাচনেও সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি জানান।
মোশাররফ হোসেন বলেন, কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের একজনের রগ কেটে দিয়েছে ছাত্রলীগের এক নেত্রী। আন্দোলনের মুখে তাকে তাৎক্ষণিক বহিষ্কারও করেছে। অথচ তাকে আবার ফুল দিয়ে বরণ করে দলে ফেরানো হয়েছে। এই রগ কাটাকে উৎসাহিত করতে আওয়ামী লীগ নেতারা ছাত্রলীগের ওই নেত্রীকে ফুল দিয়ে বরণ করেছে

একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে যারা আন্দোলনে গিয়েছিল, নেতৃত্ব দিয়েছিল তাদের হল থেকে বের করে দেয়া হচ্ছে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের নামে মামলা দেয়া হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক আন্দোলন এটা প্রমাণিত হয়েছে প্রধানমন্ত্রী আন্দোলনের কাছে মাথা নত করে কোটা পদ্ধতি তুলে নেয়ার মাধ্যমে। অতএব এই আন্দোলনে কোন মামলা থাকতে পারে না। যাদের নামে মামলা হয়েছে আমি অবিলম্বে তাদের নামে করা সকল মামলা তুলে নেয়ার দাবি জানাচ্ছি।
বিএনপির এই নীতিনির্ধারক বলেন, সাধারণ ছাত্রদের কোটা সংস্কারের দাবিতে করা আন্দোলন ছিল যৌক্তিক আন্দোলন। আমরা বিএনপির পক্ষ থেকে অনেক আগে দাবি জানিয়েছিলাম প্রতিবন্ধী, নৃগোষ্ঠী ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ছাড়া আর কাউকে কোটা দেয়া যাবে না। ছাত্রদেরও একই দাবি। তাই আমরা সংবাদ সম্মেলন করে এই আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়েছি।
এসময় তিনি বলেন, ছাত্ররা চেয়েছিল কোটা সংস্কার করা হোক। ২০ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনা হোক। কিন্তু কোটা সংস্কার না করে ছাত্রদের আন্দোলনের এক পর্যায় ক্ষোভের মুখে প্রধানমন্ত্রী কোটা পদ্ধতিই বাতিল করে দিলেন। এখন আগামী রবি-সোমবারের মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে। তা না হলে আমরা বিশ্বাস করি না আপনি আসলেই কোটা বাতিল বা সংস্কার চান।

সংগঠনের সভাপতি হুমায়ুন কবির বেপারীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন কণ্ঠশিল্পী মনির খান, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মোহাম্মাদ রহমাতুল্লাহ, সাবেক এমপি বিলকিস ইসলাম প্রমুখ।
প্রধানমন্ত্রী সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন: দুদু
ঢাকা: কোটা সংস্কার নিয়ে তীব্র আন্দোলনের মুখে বুধবার জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে বক্তব্য দিয়েছেন ‘সেটা সংবিধানের পরিপন্থী’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান ও কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান দুদু।

বৃহষ্পতিবার (১২ এপ্রিল) দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনী মিলনায়তনে ‘কোটা পদ্ধতি সংস্কার আন্দোলন সরকারের ভূমিকা’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
এসময় তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী সংবিধানকে লঙ্ঘন করেছেন।
মতবিনিময় সভার আয়োজন করে নাগরিক অধিকার আন্দোলন ফোরাম।

আলোচনা সভায় প্রধান আলোচকের আলোচনায় বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী এমন একটা অবস্থানে তিনি শুদ্ধ প্রধানমন্ত্রী নন অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রীর অবস্থানে তিনি এই ক্ষমতাকে অপব্যবহার করছেন। কোটা সংস্কার নিয়ে বুধবার জাতীয় সংসদে তিনি যে বক্তব্য দিয়েছেন তা সংবিধানের পরিপন্থী। তিনি সংবিধানকে লঙ্ঘন করেছেন। রাগের বশবর্তী হয়ে প্রধানমন্ত্রী কোন কথা বলতে পারেন না। কিন্তু তিনি রাগ-অনুরাগের বশবর্তী হয়ে এক ধরনের ধমক দিয়েছেন। আমি সাবেক ছাত্রনেতা হিসেবে এটার তীব্র প্রতিবাদ জানাই।
বিএনপি’র এই নেতা বলেন, আন্দোলনকারীদেরন কেউ চায়নি কোটা প্রথা বাতিল করা হোক। কিন্তু তারপরও তিনি শেখ হাসিনা আমাদের ছাত্র ভাইদেরকে ধমক দিয়েছেন, তিনি ছাত্রদেরকে ছোট করেছেন।
শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, কোটা সংস্কারের জন্য আন্দোলনের নামে যে ঘটনা আপনি (প্রধানমন্ত্রী) টের পেয়েছেন তার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ জানাই। এখন আপনার উচিৎ হচ্ছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য নির্দলীয় সরকারের দাবি মেনে নেয়া।

এ সময় তিনি প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে আরও বলেন, মানুষের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দেয়ার জন্য একটি উদ্যোগ নিন। এই বক্তব্যটা দিন জাতীয় সংসদে যদি বলেন, তাহলে জনগণ জাতি আপনাকে ধন্যবাদ জানাবে এবং ছাত্রদের ওপরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশের পক্ষ থেকে যে মামলা করা হয়েছে আমি তার প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি।
কৃষকদলের এই সাধারণ সম্পাদক অভিযোগ করে বলেন, আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ৭৫ বছর বয়সে কষ্ট দেয়ার জন্যই নির্জন কারাগারে রেখেছে এই অবৈধ সরকার। এমনকি তিনি কারও সাথে কথা বলতে পারেন না, মেডিকেল বোর্ড পর্যন্ত বলেছে তিনি অসুস্থ।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, নেত্রীর মুক্তি এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে আমাদের সবাইকে ছড়িয়ে পড়তে হবে। কারণ দেশের জনগণ আমাদের সাথে আছে।
আয়োজক সংগঠনের উপদেষ্টা হাজী মো. মাসুক মিয়ার সভাপতিত্বে এবং এম জাহাঙ্গীর আলমের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড আব্দুল মঈন খান, নির্বাহী কমিটির সদস্য ইসমাইল হোসেন বেঙ্গল, সদস্য আবু নাসের মোহাম্মদ রহমতউল্লাহ, এনডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মঞ্জুর হোসেন ঈশা প্রমুখ

Facebook Comments