সেলফি ছেড়ে লড়াইয়ে নামুন: ফখরুল

তরুণদেরকে শুধু ক্যামেরা আর সেলফি নিয়ে চিন্তা না করে দেশের জন্য লড়াইয়ে নামার তাগাদা দিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বরিশালে আয়োজিত বিভাগীয় সমাবেশে দলের মহাসচিব এই আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘শুধু সেলফি আর ক্যামেরা নিয়ে ঘুরলে হবে না। লড়াই করতে হবে। শৃঙ্খলার মধ্যে দিয়ে সংগ্রাম করতে হবে।’

নগরীর হেমায়েত উদ্দিন ঈদগাহ ময়দানে এই সমাবেশে বিএনপি নেতা বলেন, ‘এখন আমাদের একটাই দাবি। সেটা হল, দেশমাতাকে (খালেদা জিয়া) মুক্ত করা। তারপর হবে নির্বাচন নিয়ে আলোচনা। নির্বাচন হবে তবে সেটা নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে।’
বিএনপির সংগ্রাম দলের স্বার্থে নয় দাবি করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এই আন্দোলন জনগণের জন্য, স্বাধীনতা রক্ষা করার জন্য, ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনার জন্য।’
‘স্বাধীনতার পতাকা নিয়ে আমাদের সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করতে হবে। জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’

দেশে এখন গণতন্ত্রের শাসন নেই মন্তব্য করে বিএনপি নেতা বলেন, ‘দেশে এখন বুলেটের শাসন চলছে। দেশের ব্যাংকগুলো লুট করা হচ্ছে, শেয়ারবাজার ধ্বংস ধ্বংস হচ্ছে। প্রতি বছর বিদ্যুতের দাম বাড়ছে।’
‘বলা হচ্ছে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হয়েছে। কিন্তু উন্নয়ন দেশের হয়নি, হয়েছে আওয়ামী লীগের। আর সেই উন্নয়নে বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়েছে ১০ থেকে ১৫ গুণ।’
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘সরকার নানা উছিলায় আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারাবদ্ধ করে রেখেছে। জিয়া ট্রাস্ট থেকে একটি টাকাও তোলা হয়নি। তবে মিথ্যা মামলা দিয়ে তাকে বন্দি করে রাখা হয়েছে।
‘শখ হাসিনা জানেন, ২০১৪ সালের নির্বাচনে জনগণ তাকে বয়কট করেছে। সামনের নির্বাচনেও তিনি সেই ভয়ে রয়েছেন। আর এই কারণে আমাদের নেত্রীকে বন্দি করা হয়েছে।’

স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান বলেন, ‘দেশমাতাকে আমরা মুক্ত করব। মুক্ত করার পর দেশের নব্য বাকশালকে দেশ থেকে বিতারিত করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করব।’
স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সরকারকে দুর্নীতিবাজ আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘তারা লক্ষ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে। এখন এর বিরুদ্ধে লড়াই আর গণতন্ত্র রক্ষা করতে গিয়ে খালেদা জিয়া জেলে রয়েছেন। ’
বএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য মির্জা আব্বাস জানান, ‘যখন দেশে স্বৈরাচারী নেমে আসে তখন নেতাদের উচিত জনগণের সামনে চলে আসা। আমরা তাই করেছি। আমরা চাই দেশ থেকে স্বৈরাচারী বিদায় হোক।’
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও মহানগর বিএনপির সভাপতি মজিবর রহমান সরোয়ারের সভাপতিত্বে এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শাহজাহান ওমর, সেলিমা রহমান, মোশাররফ হোসেন নান্নু, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, বরকত উল্লাহ বুলু, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদিন, প্রমুখ এই সমাবেশে বক্তব্য রাখেন।

সমাবেশে বরিশাল বিভাগের ছয় জেলার বিএনপি নেতাকর্মীরা অংশ নেন। আর এই জমায়েতকে ঘিরে যেন কোনো বিশৃঙ্খলা না হয়, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য সেখানে মোতায়েন করা হয়।

Facebook Comments