দেশের প্রায় ৯০ ভাগ ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত খোদ আওয়ামিলীগ – তদন্ত প্রতিবেদন

মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী , ২০১৭ সালের প্রথম ছয় মাসে ২৮০টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে৷ ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ১৬ জনকে৷ আর আত্মহত্যা করেছেন পাঁচ জন৷ অপরদিকে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন ২রা আগস্ট এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, গত ৭ মাসে সারাদেশে কেবল শিশুই ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ২২৯ টি৷ এরমধ্যে মারা গেছে ৮ টি শিশু৷ ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে আরো ২২টি শিশুকে৷ মহিলা পরিষদের একটি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০৮ সাল থেকে গত বছর পর্যন্ত আট বছরে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন চার হাজার ৩০৪ জন৷ তাদের মধ্যে ৭৪০ জনকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে৷ এসব ধর্ষণের ঘটনায় বিচার হয়েছে হাতে গোনা কিছু মামলার৷

নারীদের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বলছে বাংলাদেশে ২০১৬ সালে এক হাজারেরও বেশি নারী ও কন্যা শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে।বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ নামের সংগঠনটি নারীদের উপর নির্যাতনের ‘নির্মম ও নিষ্ঠুর’ ধরণকে ‘উদ্বেগজনক’ বলে বর্ণনা করেছে।বাংলাদেশের ১৪ টি দৈনিক পত্রিকার খবর বিশ্লেষণ করে সংগঠনটি বলছে ২০১৬ সালে ১০৫০ জন ধর্ষণের শিকার হয়েছে। তাদের রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০১৫ সালের তুলনায় এই সংখ্যা কিছুটা কম হলেও ধর্ষণ, নির্যাতনের ধরণ ছিলো নির্মম ও নিষ্ঠুর। অর্থাৎ ২০১৫ সালে বর্ষণের সংখ্যায় আরো বেশি। সংগঠনটির সভাপতি আয়েশা খানম বলছিলেন সংখ্যা কম বেশির চেয়ে বেশি উদ্বেগের ছিল নির্যাতনের ধরণ ও মাত্রা নিয়ে।
২০১৩ সালের ২৯ ডিসেম্বর ” মার্চ ফর ডেমোক্র্যাসি” কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল বিরোধী দল। ওই কর্মসূচি বানচাল করতে ঢাকার রাজপথে সহিংস হয়ে উঠে শেখ হাসিনার জঙ্গি বাহিনী। শেখ হাসিনাকে খুশি করতে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা বিরোধী দলের নেতা কর্মীদের বেধড়ক পেটায়। সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গনে নারী আইনজীবীদের পিটিয়ে রক্তাত্ব করে। এক আওয়ামী দুর্বৃত্ত জাতীয় পতাকা হাতে প্রকাশ্যেই নারী আইনজীবীদের সামনে লিঙ্গ প্রদর্শন করে। সেই দুর্বৃত্তের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনা কোনো আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। আওয়ামী দুর্বৃত্ত জিপার খুলে যেভাবে লিঙ্গ বের করে জাতিকে প্রদর্শন করেছে সেই আওয়ামী লিঙ্গ এখনো আর জিপারের ভেতরে ঢোকেনি। ফলে বেড়েই চলছে ধর্ষণ কান্ড।
১. ২০১৭ সালের ১৭ জুলাই বাড়ি থেকে ক্যাডার দিয়ে তুলে নিয়ে গিয়ে এক ছাত্রীকে বর্ষণ করে বগুড়া শহর শ্রমিক লীগের আহ্বায়ক তুফান সরকার। এরপর ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দিতে রাজনৈতিক শক্তি প্রয়োগ করে ধর্ষক তুফান। দলীয় ক্যাডার এবং ধর্ষকের আত্মীয় বগুড়া পৌরসভার সংরক্ষিত ওয়ার্ডের নারী কাউন্সিলর মার্জিয়া আকতার ২৮ জুলাই বিকেলে ওই ধর্ষিতা ছাত্রী ও তার মাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে চার ঘণ্টা ধরে নির্যাতন চালান। এরপর দুজনেরই মাথা ন্যাড়া করে দেওয়া হয়।

২. স্বামীকে আটকে তার স্ত্রীকে ধর্ষণ করেছে বানারীপাড়া উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি সুমন মোল্লা। শনিবার (১৫ জুলাই ২০১৭) ধর্ষিতা নারী তার স্বামীর সঙ্গে আহম্মদাবাদ বেতাল গ্রামে নানার বাড়িতে বেড়াতে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে মধ্যরাতে এই দম্পতির বিয়ের কাগজপত্র আছে কিনা জানতে চেয়ে উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি সুমন মোল্লাসহ অজ্ঞাত ৪-৫ ব্যক্তি আহম্মদাবাদ বেতাল ক্লাবে নিয়ে যায়। এরপর তাকে সেখানে আটকে রাখে এবং রাত ১টায় উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি সুমন মোল্লা তার স্ত্রীকে ধর্ষণ করে। পরদিন রোববার সকালে ধর্ষিতা কোনোরকমে ছাড়া পেয়ে বিষয়টি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও থানা পুলিশকে জানান। এরপর খবরটি জানাজানি হয়।
৩. ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় ২০১৭ সালের ১১ জানুয়ারি ময়মনসিংহ মুসলিম গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের কাছ থেকে একজন কলেজ ছাত্রীকে একটি মাইক্রোবাসে তুলে ধর্ষণ করে ছাত্রলীগ নেতা আলমগীর ও তার সঙ্গীরা। তারা তাকে অজ্ঞান অবস্থায় ফেলে যায়। পরে তার বান্ধবীরা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়।” ধর্ষকরা হলো, উপজেলার হবিরবাড়ি ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি আলমগীর কবির, তার বন্ধু তুষার (২৬) ও স্থানীয় মাইক্রোবাস চালক মোখলেছ (২৫)।

৪. ২০১৭ সালের ৫ মে ঢাকা যাওয়ার জন্য রেলস্টেশনে অপেক্ষা করছিলেন এক গৃহবধূ ও এক তরুণী। ট্রেন আসতে দেরি হওয়ায় একসঙ্গে অপেক্ষা করছিলেন তাঁরা। তাঁরা পোশাক কারখানায় কাজের সন্ধানে ঢাকায় যাচ্ছিলেন। এ সময় রাত সাড়ে ১১টার দিকে কোটাচাঁদপুর রেলস্টেশনের কাছের একটি আমবাগানে তাদেরকে তাঁদের ধর্ষণ করে ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শেখ শাহীন, স্থানীয় ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতির ছেলে কৃষ্ণপদ দশ এবং রাজু আহমেদ।

এভাবে প্রতি ঘটনায় দেখা যায়, দেশের প্রায় ৯০ ভাগ ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত হাসিনার আওয়ামী লিঙ্গ।

Facebook Comments