সরকার কিন্তু ভুলে গেছে সময় কখন কার আসে কেউ বলতে পারে না: জয়নুল আবদিন ফারুক

বিশেষ অথিতির বক্তব্যে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক বলেছেন, গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা রক্ষায় জাতীয় ঐক্যের কোন বিকল্প নাই। সরকার মনে করছে শুধু তাদেরই সময়। কিন্তু, তারা ভুলে গেছে সময় কখন কার আসে কেউ বলতে পারে না।
স্বাধীনতার ৪৭ বছর পরও গতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করতে হচ্ছে এটা অত্যান্ত দু:খজনক। তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার জেলে থাকা নিয়ে নানা ধরনের বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে। জনগন এতে বিভ্রান্ত নয়। সরকারকে মনে রাখতে হবে

বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বেই আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহন করা হবে। বিগম জিয়াই হচ্ছেন গণতন্ত্রের প্রতীক। তোপখানায় বাংলাদেশ শিশু কল্যাণ মিলনায়তনে বাংলাদেশ লেবার পার্টি আয়োজিত ‘সুশাসন, বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও গণতন্ত্র কোন পথে’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায়তিনি এসব কথা বলেন।
লেবার পার্টি চেয়ারম্যান এমদাদুল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশগ্রহন করেন এনপিপি চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, জাতীয় দল চেয়ারম্যান এডভোকেট সৈয়দ এহসানুল হুদা, বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া, লেবার পার্টি মহাসচিব হামদুল্লাহ আল মেহেদী,

এনডিপি ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা, কল্যাণ পার্টি ভাইস চেয়ারম্যান সাহিদুর রহমান তামান্না, দেশবাচাও মানুষ বাচাও আন্দোলনের সভাপতি কেএম রকিবুল ইসলাম রিপন, লেবার পার্টি ভাইস চেয়ারম্যান শামসুদ্দিন পারভেজ, আলহাজ্ব মাহমুদ খান, হিন্দু রত্ন রামকৃষ্ণ সাহা,
উপদেষ্টা জাহিদ আহমেদ, যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক মহসিন ভুইয়া, আহসান হাবিব ইমরোজ, আবদুল্লাহ আল মামুন, প্রচার সম্পাদক আবদুর রহমান খোকন, ছাত্র মিশন সভাপতি কামরুল ইসলাম সুরুজ প্রমুখ।

‘আম্মু, আম্মুগো আমারে নিয়া যাও’ ভণ্ড মাহবুবের সর্বশেষ বলি শিশু ফরিদ
নিস্তব্ধ সিন্দুরিয়াপাড়া। মাঝে মাঝে চিৎকার করা কান্নার রোল। গা শিউরে চমকে উঠে ভাঙবে ঘুম। কথিত কবিরাজ মাহবুবের হেফাজতে নিহত শিশু ফরিদের বাড়ির আশপাশে এখন রাজ্যের স্তব্ধতা। কখনো কখনো সেই স্তব্ধতা ভেঙে অঝোর ধারায় কাঁদছে কুমিল্লার বুড়িচংয়ের সিন্দুরিয়াপাড়াসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রাম। বিশেষ করে সিন্দুরিয়ার শিশু-বৃদ্ধ সব বয়সের মানুষের চোখ যেন শ্রাবণের বর্ষণ। কেন তারা এমন করে কাঁদছে?

একটি শিশুর মৃত্যু পুরো গ্রামে শোকে পরিণত হয়েছে। স্তব্ধ হয়ে যাওয়া এসব মানুষের শোক যে কত কঠিন শক্তিতে পরিণত হতে পারে, তা স্বচোখে না দেখলে বিশ্বাস করার নয়।
ভণ্ড, ধূর্ত, চরিত্রহীন, লম্পট, নারী লোভী ও ধর্মব্যবসায়ী জিন হুজুর নামে কথিত মাহবুব কবিরাজের নির্মম নির্যাতনে পৃথিবীর আলো বাতাস দেখার ও বুঝে ওঠার আগেই বড্ড অসময়ে চলে যেতে হলো শিশু শেখ ফরিদকে। নাড়ি ছেড়া প্রিয় সন্তান হারানোর ব্যথায় ক্ষণে ক্ষণে মূর্ছা যাচ্ছেন মা রোজিনা। আর এলাকাবাসীর বুক ফাটা আর্তনাদ- এ ধরনের লম্পটের কবলে আর কোনো মায়ের বুক যেন খালি না হয়।

ফরিদ যেভাবে পড়ল মাহবুব কবিরাজের কবলে: শেখ ফরিদের মা রোজিনা বেগমরা ৫ ভাই ও ৫ বোন। তার এক বোনের নাম রেজিনা। তার নাকি জিনের আছর আছে। রেজিনা যাকে বেশি আদর করবে তাকেই নাকি জিনে ধরে। আর এই বদ জিন যাকে ধরে, তার হাত পা নাকি চিকন হয়ে যায়।
এরই মধ্যে নিহত শেখ ফরিদের মায়ের আত্মীয় স্বজনদের নাকি ওই জিনের ছোঁয়াতে রোগ সংক্রমিত হয়েছে। এ কারণে ফরিদের ছোট খালা তার এক ছেলে এবং অপর বোনের আরেক ছেলেকে ২৫ মার্চ মাহবুব কবিরাজকে দেখান। এর পর বড় বোন রোজিনাকে ফোন করে বলেন, শেখ ফরিদের তো এখনো কোনো সমস্যা হয়নি। কিন্তু যেহেতু বংশে জিনের আছরের সমস্যা আছে, তাই আগেভাগেই মাহবুব কবিরাজকে দেখানোর পরামর্শ দেন। বোনের কথা মতো সরল বিশ্বাসে সুস্থ সন্তানকে মাহবুব কবিরাজের আস্তানায় নিয়ে যান রোজিনা বেগম।

শিশু ফরিদ যেভাবে হলো মাহবুবের বলি: রোজিনা বেগম পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া বড় মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে মাহবুব কবিরাজের আস্তানায় যান ২৯ মার্চ বৃহস্পতিবার বিকেলে। ২০ টাকায় টিকিট কেটে অনেকক্ষণ অপেক্ষার পর ডাক পড়ে রোজিনার। ছেলে-মেয়েসহ ভেতরে তার খাস কামরায় যান রোজিনা বেগম। শেখ ফরিদকে দেখেই গালে পিঠে টেনেটুনে কবিরাজ জানান, এখনো তাকে জিনে পুরোপুরি ধরেনি। তবে প্রতিরাতে জিন তার গালে কামড়িয়ে যায়। ভণ্ড কবিরাজ জানায়,
জিন থেকে ফরিদকে বাঁচাতে হলে তিন দিনের জন্য রেখে যেতে হবে তার আস্তানায়। তিন দিন পর রোববার এসে নিয়ে যাওয়ার কথা জানায় মাহবুব। এরই মধ্যে রোজিনাকে পড়া পানি খাওয়ায় ভণ্ড কবিরাজ। ক্ষণিকের মধ্যেই কবিরাজের মোহে আবিষ্ট হয়ে পড়ে রোজিনা। কিন্তু ফুঁসে ওঠে শেখ ফরিদের বোন ফাতেমা আক্তার। মায়ের সঙ্গে কথাবার্তাসহ মাহবুবের নানা অঙ্গভঙ্গিতে মুহূর্তেই কবিরাজের চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় ফাতেমা। মাকে বলে, ভাইয়ের যদি হায়াত না থাকে, তাহলে বাড়িতে মরবে

তার পরও তুমি ফরিদকে এখানে রাখবা না। এখানকার পরিবেশ আমার পছন্দ হচ্ছে না। কিন্তু মায়ের মন বলে কথা। মা রোজিনার মনে পড়ে বোনের সন্তানদের কষ্টের কথা। ভাবেন যদি নিজের সন্তানের হাত পাও চিকন হয়ে যায়। তাই সন্তানের ভবিষ্যত চিন্তা করে বুকের তাজা কষ্টকে চাপা দিয়ে কবিরাজ মাহবুবের কাছে ফরিদকে সপে দিয়ে চলে যান বাড়ি।
আম্মু-আম্মুগো যেও না, আমার নিয়া যাও: সন্তান হারানো রোজিনা কান্না করতেও যেন ভুলে গেছেন। কারো সঙ্গে কথাও বলেন না। বাকরুদ্ধ ফরিদের মা। ছেলেকে রেখে আসার সময় ফরিদ কাঁদেনি?- প্রতিবেদনকের এমন প্রশ্নে হাউ-মাউ করে কেঁদে ওঠেন রোজিনা বেগম।

জানান, আসার সময় ফরিদ বার বার আঁচলে ধরে আম্মু আম্মু বলে কান্না করছিল। ছেলে আমার শুধু একটা কথাই বলছে, আম্মু গো আম্মু তুমি আমায় নিয়ে যাও। রেখে যেও না। আমি তোমারে ছাড়া থাকতে পারব না। তখন কি জানতাম আমি নিজেই কলিজার টুকরা ছেলেকে আজরাইলের কাছে দিয়া যাচ্ছি।
থামছে না সিন্দুরিয়াপাড়ার কান্না: কাঁদছে সিন্দুরিয়া। থামছে না কান্নার রোল। শেখ ফরিদের পরিবারের মধ্যেই থেমে থাকেনি কান্নার সে াত। ডুকরে ডুকরে কাঁদছে সিন্দুরিয়ার মানুষ।

রানু বিবি। ৫০ ঊর্ধ্ব এই বৃদ্ধা জানান, ফরিদের জানাজায় যে লোক এসেছে, এত লোক তিনি এর আগে কখনো দেখেননি। কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকা থেকে সিন্দুরিয়া পাড়া পর্যন্ত পুরোটা পথজুড়ে দেখা গেছে মানুষের আর্তনাদ। নিহত শেখ ফরিদের বাড়ির আশপাশে এখন নারী পুরুষ আর শিশুদের মিছিল। ফরিদ হত্যার বিচার চাই, ভণ্ড কবিরাজ মাহবুবের ফাঁসি চাই।
ফরিদের চাচা মাহবুবুর রহমান, ময়নামতি উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের সহকারী শিক্ষক মো. রাশিদুল হক, আলেয়া পারভীন, সাহেরা বেগমসহ অসংখ্য নারী পুরুষের আর্তনাদ, ভাই একটু লেখবেন- শেখ ফরিদের মায়ের মতো আর যেন কোনো মায়ের বুক ভণ্ড কবিরাজের হাতে খালি না হয়।

যা বললেন ফরিদের চাচি: নিহত শেখ ফরিদের আপন বড় চাচি জানান, কাফন খুলে দেখা যায় শেখ ফরিদের মাথা থেকে পা পর্যন্ত পুরো শরীরে কামড়ের দাগ। আর থুথনি ছিল কাটা। গলায় দাগ। যা দেখে বোঝা যায়, গলা টিপে ধরেছিল ভণ্ড কবিরাজ।

Facebook Comments