আমার কোন একাউন্টে, কোন ব্রাঞ্চে, কবে কখন কত টাকা উত্তোলন হয়েছে, বিস্তারিত প্রকাশ করা হোক: ড. মোশাররফ

গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের উপর ভিত্তি করে বিএনপির ৮ সিনিয়র নেতাসহ ৯ জনের ব্যাংক একাউন্ট থেকে সন্দেহজনক লেনদেনের যে তালিকা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) প্রকাশ করেছে তা বানোয়াট, মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক উদ্যেশ্য প্রণোদিত বলে মন্তব্য করেছেন দলটির সিনিয়র নেতারা।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টন দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র নেতারা এসব মন্তব্য করেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, দুদকের বক্তব্যে আমার নাম জড়ানো হয়েছে। আজকে যখন আমাদের নেত্রীকে একটি মিথ্যা মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং তার জামিন বিলম্বিত করা হচ্ছে। এদিকে দলের মহাসচিব অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে। এমন সময় দুদক কর্তৃক বানোয়াট, মিথ্যা কল্পকাহিনী প্রচার করা হয়েছে। দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে তারা হীন প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। আমরা এসবের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

২১ কোটি টাকার একাউন্টের যে তথ্য দেয়া হয়েছে তার উপর চ্যালেঞ্জ করে তিনি বলেন, ডাচ বাংলা ব্যাংকে আমার ও আমার পরিবারের কারো কোনো একাউন্ট নাই। দুদক যে মিথ্যা তথ্য দিয়েছে আমি দুদককে অনুরোধ করবো কোন একাউন্টে, কোন ব্রাঞ্চে, কবে কখন কত টাকা উত্তোলন হয়েছে। এমনকি কত টাকা স্থীতি আছে তা বিস্তারিত প্রকাশ করা হোক।

ড. মোশাররফ বলেন, এর আগেও সরকার খালেদা জিয়াসহ আমাকে জড়িয়ে নানা কল্পিত সম্পদের মিথ্যা তথ্য প্রচার করেছিল। তখন আমার নামে বলা হয়েছিল সিংগাপুরে নাকি আমি ৫ তারকা হোটেলের শেয়ার হোল্ডার। এখন অনলাইনের মাধ্যমে বিশ্বের যে কোন প্রতিষ্ঠানের সদস্যদের তথ্য পাওয়া যায়। অথচ তারা তা দেখাতে পারেনি।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, আব্দুল আউয়াল মিন্টু, উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম, নির্বাহী সদস্য আমিনুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, সন্দেহজনক লেনদেনে দুদক যাদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে তারা হলেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির চারজন সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও মির্জা আব্বাস, দুইজন ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু ও এম. মোর্শেদ খান, যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেল, আবদুল আউয়াল মিন্টুর ছেলে তাবিথ আওয়াল ও এম. মোর্শেদ খানের ছেলে ফয়সাল মোর্শেদ খান

Facebook Comments