দুদকের অনুসন্ধান>>চাপে রাখার কৌশল মনে করছে বিএনপি

ব্যাংক থেকে ‘অল্প সময়ে কোটি কোটি টাকা উত্তোলন’ করা নিয়ে সন্দেহের কারণে বিএনপির যেসব নেতার বিষয়ে দুদক অনুসন্ধান শুরু করছে তাঁরা বলেছেন, বিএনপিকে ভাঙতে না পেরে সরকার নতুন ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। বিএনপিকে চাপে রাখার জন্য দুদকের মাধ্যমে বিএনপিকে হয়রানি করা হচ্ছে। কিন্তু এতে শেষ রক্ষা হবে না।
বিএনপির আট নেতার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অনুসন্ধানে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে গতকাল গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। এঁদের একজন দলটির স্থায়ী কমিটির প্রবীণ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সরকার চাপে রাখার কৌশল হিসেবে আমাদের বিরুদ্ধে তার সমর্থক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে মিথ্যা প্রপাগান্ডা করাচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘কিন্তু আমার ক্ষেত্রেও এ ধরনের মিথ্যা কথা বলা হবে, সেটি ধারণারও বাইরে ছিল। যে ব্যাংক থেকে টাকা তোলার কথা বলা হয়েছে সেই ব্যাংকে আমি বা আমার পরিবারের কোনো সদস্যের অ্যাকাউন্টই নেই। তাহলে টাকা তুলব কিভাবে?’

স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, ‘টাকা কি গাছের পাতা যে চাইলেই পাওয়া যায়! টান দিলেই চলে আসে? ষড়যন্ত্র এবং হাস্যকর বিষয়েরও একটি সীমা থাকে।’ আব্বাস বলেন, ‘আমার কোনো অবৈধ সম্পদ অতীতেও ছিল না বর্তমানেও নেই; ভবিষ্যতেও থাকবে না।’ তাঁর মতে, বিএনপিকে ভাঙার চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে শেষ পর্যন্ত এসব হাস্যকর বিষয় নিয়ে সরকার মাঠে নেমেছে। অথচ এ দেশে যাদের কোনো সম্পদ কখনোই ছিল না, তাদের এখন বিদেশে টাকা, বাড়ি-গাড়ি সবই আছে। কিন্তু তাদের দুদক দেখে না। দুদকের চোখ বিএনপির দিকে। সুতরাং এ ধরনের উদ্যোগের অর্থ এ দেশের জনগণের বুঝতে অসুবিধা হয় না।

স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য অমির খসরু চৌধুরী বলেন, ‘গুম, খুন এবং শত শত মামলা হামলা দিয়েও বিএনপিকে দুর্বল করতে না পেরে সরকার এখন দুদককে দিয়ে জল ঘোলা করতে চাইছে। কিন্তু দেশের জনগণ দলকানা নয়। তারা জানে, এসব কারা করছে বা কেন করছে।’ বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, ‘সরকার দেশে অদ্ভুত সব নিয়ম চালু করেছে। যারা চুরি করে দেশ ফোকলা করে ফেলছে তাদের দুদক চোখে দেখে না। আমরা ১০-১২ বছর ধরে বিরোধী দলে আছি; আমরা চুরি করব কোত্থেকে?’ তিনি বলেন, সরকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস ও অপব্যবহার করে যতই বিরোধী দল দমনের কাজে ব্যবহার করা হবে, পতনও তত তাড়াতাড়ি অনিবার্য হয়ে উঠবে।

আবদুল আউয়াল মিন্টুর ছেলে, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দুদকের অনুসন্ধানের বিষয়ে আমরা এখনো কিছু জানি না। তাদের কোনো চিঠি পাইনি। দেখা যাক তারা কী অনুসন্ধান করে। তবে বিএনপি বা আমরা কী করছি সেটি দৃশ্যমান; গোপন কিছু নয়। জনগণের সামনে সেটি স্পষ্ট। এখন ক্ষমতায় বসে সরকার অসৎ বা অনৈতিক উদ্দেশ্যে কিছু করলে সেটিও জনগণ দেখবে।’ তাঁর মতে, এসব করে দীর্ঘ সময়ের জন্য কারো লাভ হয় না। ইতিহাসে এমন নজির নেই।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিএনপিকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখার ষড়যন্ত্র হিসেবে সরকার নানা এজেন্ডা নিয়ে মাঠে নেমেছে। দুদককে দিয়ে করানো কার্যক্রম তারই অংশ বলে আমি মনে করি।’ তাঁর মতে, কোনো স্বৈরাচারী সরকারই এসব করে পার পায়নি। এ সরকারেরও এসব করে শেষ রক্ষা হবে না।

Facebook Comments