আমি বাঁচতে চাই আওয়ামী লীগ ক্যাডার বাহিনীর হাত থেকে

ধর্ষণ মামলা দায়েরের পর থেকে আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যানের ক্যাডার বাহিনীর ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন ধর্ষিতা কলেজছাত্রী। এ ছাড়া মামলা তুলে নিতে ওই ছাত্রীর পরিবারকে হুমকি অব্যাহত রেখেছে তার বাহিনী। এ বাহিনীর অত্যাচার ও নির্যাতনে বসতবাড়ি বিক্রি করে এলাকা থেকে চলে গেছে এক পরিবার। চাঁদাবাজির মামলা করে আতঙ্কে দিন কাটছে অন্য এক পরিবারের।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ধর্ষণ মামলার আসামি হওয়ার পর পলাতক আছেন বগুড়া জেলার নন্দীগ্রাম উপজেলার ভাটরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোরশেদুল বারী। তিনি পলাতক থাকলেও তার ক্যাডার বাহিনী এলাকা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে মোটরসাইকেল বহর নিয়ে।ধর্ষণ মামলার বাদির বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় তিনি নেই। তার বাবা জানান, চেয়ারম্যানের লোকজনের ভয়ে তার মেয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। মামলা তুলে নিতে তাদের বিভিন্নভাবে হুমকি দেয়া হচ্ছে। মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে ওই কলেজছাত্রী জানান, চেয়ারম্যান তাকে হত্যার জন্য ষড়যন্ত্র করছেন। মামলা দায়েরের পর থেকেই চেয়ারম্যানের ক্যাডার বাহিনীর হুমকিতে তিনি বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে অন্যত্র বসবাস করছেন। চেয়ারম্যানের ক্যাডার বাহিনীর অত্যাচার ও নির্যাতনে ২০১৬ সালে বসতবাড়ি বিক্রি করে বগুড়া শহরে বসবাস করছেন পণ্ডিতপুকুর বাজার এলাকার বাসিন্দা দিদার মণ্ডল নামের এক বেসরকারি চাকরিজীবী। তুুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে অন্যায়ভাবে চেয়ারম্যানের আস্তানা খ্যাত পণ্ডিতপুকুর টাইগার ক্লাবে নিয়ে গিয়ে দিদার মণ্ডল ও তার ছেলে কলেজছাত্র আতিকুর রহমান জনিকে বেদম মারধর করে এলাকা ছেড়ে যাওয়ার জন্য হুমকি দেয়া হয়। প্রাণভয়ে ওই পরিবার মামলা করার সাহস পায়নি। জীবন বাঁচাতে পরিবারকে নিয়ে বসতবাড়ি বাজারমূল্যের চেয়ে কম দামে বিক্রি করে শহরে বাস করছেন তারা।

এ বিষয়ে দিদার মণ্ডল বলেন, চেয়ারম্যানের ক্যাডার বাহিনীর মদদদাতা আমজাদ হোসেন মাস্টার ও ক্যাডার নুরুর নেতৃত্বে তার পরিবারের ওপর সীমাহীন অত্যাচার ও নির্যাতন চালানো হয়। জীবন বাঁচাতে বসতবাড়ি বিক্রি করে পরিবার নিয়ে বর্তমানে বগুড়া শহরে বসবাস করছি। অভিযুক্ত আমজাদ হোসেন মাস্টার দেশের বাইরে থাকার কারণে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। চেয়ারম্যানের ক্যাডার হিসেবে এলাকায় পরিচিত নুরুল ইসলাম নুরু বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, স্বেচ্ছায় বাড়িঘর বিক্রি করে তিনি চলে গেছেন। তার পরিবারের ওপর কোনো অত্যাচার নির্যাতন করা হয়নি।

চলতি ২০১৭ মেয়াদে পণ্ডিতপুকুর হাট সরকারিভাবে ইজারা পায় ওই এলাকার মুনসুর আলীর ছেলে ধান ব্যবসায়ী হাসান মাহমুদসহ আরো দুইজন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে হাসান মাহমুদের কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন চেয়ারম্যান। চাঁদা না দিলে তাকেসহ তার পরিবারের সদস্যদের বড় ধরনের ক্ষতি হবে বলে হুমকি দেয়া হয়। হাসান মাহমুদ চেয়ারম্যানকে ফেব্রুয়ারি মাসে এক লাখ টাকা দিয়ে অনুরোধ করে বলেন, তিনি আর টাকা দিতে পারছেন না। চাঁদার অবশিষ্ট এক লাখ টাকার জন্য চেয়ারম্যান ও তার ক্যাডার বাহিনী হাসান মাহমুদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে তাকে বেদম মারধর করে এবং হত্যার হুমকি দিয়ে চলে যায়।এ ঘটনায় নন্দীগ্রাম থানায় চেয়ারম্যানকে প্রধান আসামি করে চাঁদাবাজি ও মারধরের অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন হাসান মাহমুদ। মামলা দায়েরের পর চেয়ারম্যান ও তার ক্যাডার বাহিনী তাকে হত্যার হুমকি দেয়। নিজের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে গত ৯ মার্চ বগুড়া জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দফতরে আবেদন করেন হাসান মাহমুদ। পুলিশের পক্ষ থেকে তাকে বিশেষ নিরাপত্তা দেয়া হয়।

এ ব্যাপারে হাসান মাহমুদ বলেন, চেয়ারম্যান ও তার ক্যাডার বাহিনীর ভয়ে আমি এবং আমার পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কে রয়েছি।
উল্লেখ্য,গত ৩১ আগস্ট চেয়ারম্যান মোরশেদুল বারীর নামে শাজাহানপুর থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করে দুপচাঁচিয়া মহিলা কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী রুমিছা খাতুন রুমকি। মামলার ১৮ দিন অতিবাহিত হলেও পুলিশ তাকে গ্রেফতার করতে পারেনি। এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শাজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ জানান, আসামি চেয়ারম্যানকে গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত আছে। আশা করছি শিগগরিই তিনি গ্রেফতার হবেন।

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *