চরমোনাইর মাহফিল মানেই বিনোদনের আখড়া!!

কিছুদিন আগে জান্নাতের গ্যারান্টিযুক্ত, আকাবারদের নেতৃত্বে বের হওয়া জাহাজের খবর বের হয়েছিলো চরমোনাইর মাহফিল থেকে! আখেরাতে তামার জমিনে চলা মাস্তুলে ফজলুল করিম স্বয়ং বসে থাকবেন এটা নিশ্চিত করেছে কিন্ত তামার জমিনে জাহাজ কিভাবে চলবে এই বিষয়ে কেতাব লেখার কাজ এখনো চলমান থাকায় সেটা প্রকাশ করা তাদের পক্ষে সম্ভব হয়নি! !

এরপরে নিখিল বঙ্গের সাধারণ পাবলিকের সর্ব রোগের চিকিৎসা, এমনকি মৃতপ্রায় রোগীর সুস্থতার একমাত্র গ্যারান্টি যে চরমোনাইর মাহফিলে হাজির হওয়া, নামাজের মতোই কাজা না করা, এটাও জানা গেল চরমোনাইর মাহফিল থেকেই!

এর আগে বহুবার জামায়াত শিবিরের লক্ষ কুটি জনশক্তি সব ইয়াহুদী খৃষ্টানদের গোপন মিশন বাস্তবায়ন করছে, এদের সাথে বিয়ে শাদী আত্মীয়তা, বেচা কেনা হারাম, এরকম বজ্রকঠিন, ঈমানী বলে বলিয়ান ফতুয়া এই চরমোনাইর মাহফিল থেকেই প্রকাশিত হয়েছিলো!

আজকে আবার চরমোনাইর মাহফিল থেকেই ডা জাকির নায়েক, আহলে হাদিস এবং মওদুদী সাহেব কে কাফের আখ্যা দিয়ে তাদের কে জাহান্নামী ফতোয়া দেওয়া হয়েছে! মজার বিষয় হলো, চার তরিকার নামে প্রচলিত মুস্তাহাব বিষয়কে অস্বিকারকারীদের জাহান্নামী ফতোয়া দেওয়া হয়েছে অথচ দুনিয়ার দশ শতাংশ মুসলিম এই বেদয়াতে জড়িত নয় !

কেবল মাত্র ফতোয়াই নয় বরং বর্তমানে কওমী ঘরনার বড় বুজুর্গ মুফতি মিজানুর রহমান সাঈদ সাহেবের দ্বারা আল্লাহর নামে কসম কাটানোর মাধ্যমে বিষয়টি আক্বীদাগত পর্যায়ে নেওয়া হয়েছে!! তাহলে কি ধরে নিতে হবে চার তরিকা মতো মুস্তাহাব অস্বিকারকারী ওরা জাহান্নামী, এটি ওলামায়ে দেওবন্দের আক্বিদা?

এতসব ঘটনা বলার উদ্দেশ্যে হলো এই যে, চরমোনাইর মাহফিল যে বিনোদনের আখড়া এটা সাধারন মুসলিমদের জানিয়ে দেওয়া হোক! প্রশ্ন করতে পারের, মুফতি সাহেব এতটা সহজ ভাষায় কিভাবে একদল মুসলিমদের কাফের আখ্যায়িত করলেন?

উত্তর সোজা, যে যায় লংকা সেই হয় রাবন! চরমোনাইর মাহফিলে গিয়ে অলীপুরী সাহেব যেন স্বাক্ষাত মনসুর হাল্লাজের রুপ ধরেছেন! পীর ধরা কত বড় ফরজ সেটা তিনি প্রমাণ করে দিয়েছিলেন! চরমোনাইর লোকদের দাওয়াত পেতে জনপ্রিয় কত বক্তা তাজকেরাতুল আওলীয়া নামক শিরকের বস্তা মুখস্ত করছেন তার কোন ইয়াত্তা আছে?

তবে সুখবর হচ্ছে আল্লাহ পাক সত্য উন্মোচিত করছেন! ফতোয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ শরয়ী বিষয়কে কিভাবে দির্ঘদিন ধরে তামাশার বস্তু বানিয়ে রাখা হয়েছে মিডিয়ার কল্যাণে দেওবন্দী ঘরনার নতুন প্রজন্ম সেটা এখন উপলদ্ধি করছে! ইলমের সাথে সাথে যারা আদেল, তথা ইনসাফের অধিকারী নন তাদের দেওয়া ফতোয়া ডাষ্টবিনে ছুড়ে ফেলে দিন!

Facebook Comments