ত্রাণ বিতরণে বিশৃঙ্খলা: শিশু পাচ্ছে শাড়ি আর নারী পাচ্ছে শার্ট

হাসানুর রশীদ, কক্সবাজার: চরম বিশৃংঙ্খলার মধ্য দিয়ে চলছে রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে আসা এদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ। যে যেভাবেই পারছে, সেভাবেই দিয়ে চলছে ত্রাণ সামগ্রী। সরকার জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে ত্রাণ বিতরণ করার ঘোষণা দিলেও মূলত বেশির ভাগই ব্যক্তিগত উদ্যোগেও চলছে এই ত্রাণ কার্যক্রম। কেউ বা দিচ্ছেন গাড়ি থেকে ত্রাণ সামগ্রী নামিয়ে আবার কেউ বা চলন্ত গাড়ি থেকে ছুড়ে মেড়ে। এর ফলে সৃষ্টি হচ্ছে চরম বিশৃঙ্খলা। এসব ত্রাণ নিতে গিয়ে আহত হচ্ছেন নারী ও শিশুরা। রেহাই পাচ্ছেন না বৃদ্ধরাও।কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবিরে গিয়ে দেখা গেছে, ব্যক্তি উদ্যোগে পর্যাপ্ত ত্রাণ না থাকায় চলন্ত গাড়ি থেকে কাপড়, ওষুধ ও খুচরা টাকার বান্ডিল ছুড়েও দেওয়া হচ্ছে। আর এসব ছুড়ে মারা ত্রাণ নিতে গিয়ে রোহিঙ্গাদের মধ্যে ঝগড়া-ঝাঠি লেগেই আছে। আবার অনেকেই ত্রাণ নিতে ছুটাছুটি করতে গিয়ে আহত হয়েছেন। বিশেষ করে নারী শিশু ও বৃদ্ধদের অবস্থা খুবই খারাপ।কক্সবাজারের এডিএম খালুদ মাহমুদ বলেন, ‘স্থান নির্ধারণের পর বিশৃঙ্খলা কমে যাবে। নির্ধারণ করা স্পটগুলোতে পুলিশ, বিজিবি, আনসার ও ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ত্রাণ বিতরণ করা হবে।’ তিনি আরও জানান, ‘যারা এলোমেলোভাবে ত্রাণ বিতরণ করছেন, তারা বাইরে দিয়ে চলে যাচ্ছেন। একটু কষ্ট করে ভেতরে গিয়ে বিতরণ করলে এ ধরনের পরিস্থিতি হতো না।’উখিয়া সদর রাজাপালং ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী বলেন, অপরিকল্পিত ত্রাণ দেওয়ার কারণে গাড়ি থেকে ছুড়ে মারায় রোহিঙ্গাদের মধ্যে ঝগড়া-ঝাঠি হচ্ছে। ত্রাণ নিতে দৌঁড়া-দৌঁড়িতে আহত হচ্ছে অনেকেই। ছুড়ে মারা এসব ত্রাণ নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা পাচ্ছে না। অনেক সময় দেখা যায় বৃদ্ধার হাতে পড়ছে বাচ্চার টি শার্ট, কিশোরের হাতে শাড়ি। কেউ বা শিশুদের চকলেট। এরই মধ্যে অনেকে আহতও হয়েছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘আন-অর্গানাইজড এইড ডিস্ট্রিবিউশন কাজের চেয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে বেশি। প্রশাসনের সেদিকে দৃষ্টি দেওয়া উচিত।

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *