ভাষা আন্দোলনের সেনাপতি অধ্যাপক গোলাম আযম

ভাষার মাসে ভাষা আন্দোলনের সেনাপতি অধ্যাপক গোলাম আযমকে স্মরণ করা হচ্ছে না

যার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে আজকের এই বাংলা ভাষা তাকেই কিনা স্মরণ করা হচ্ছে না।এই জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের একজন ভাষা সৈনিক অধ্যাপক গোলাম আযম। স্ব-মহিমায় উদ্ভাসিত একজন মানুষ। নিজ যোগ্যতা বলে তার ঐতিহাসিক সাক্ষী তিনি নিজেই।

ভাষা আন্দোলনের সূত্রপাত কিভাবে হয়েছিল এবং কে তার নেতৃত্বে ছিলেন তা আজ মুছে ফেলা হয়েছে। একুশে ফেব্রুয়ারি হঠাৎ করেই আন্দোলন হয়নি। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে ভাষার দাবিতে আন্দোলন দেশ বিভাগের পরপরই শুরু হয়েছিল। সকল আন্দোলনের সূতিকাগার হিসেবে ভাষা আন্দোলনও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই দানা বাঁধে। আর সেই আন্দোলনের পুরোভাগে ছিলেন তৎকালীন ডাকসুর জিএস অধ্যাপক গোলাম আযম।

ইতিহাস এ কথার সাক্ষী যে, বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি পাকিস্তান সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে সর্বপ্রথম উত্থাপন করেন অধ্যাপক গোলাম আযম। ১৯৪৮ সালের ২৭ নভেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জিমনেসিয়াম মাঠে পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খানের কাছে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি সংবলিত মেমোরেন্ডামটি ডাকসুর জিএস হিসেবে তিনিই পেশ করেন।

১৯৪৮, ১৯৫২ ও ১৯৫৪ সালে তিনি ভাষা আন্দোলনের জন্য গ্রেফতার হন। ভাষার জন্য এতো ত্যাগ করার পরও আজ তিনি উপেক্ষিত!!! সত্যিই সেলুকাস।

বিশ্বের ইতিহাসে সম্ভবত ভাষার জন্য জীবন দেয়ার ইতিহাস আমরাই কায়েম করতে সক্ষম হয়েছি। আবার বিশ্বের ইতিহাসে সম্ভবত আমরাই প্রথম যারা একজন ভাষা সৈনিক কে কারাগারে আমৃত্যু পর্যন্ত আবদ্ধ করে রেখেছিলাম

Facebook Comments