এক ভ্যান চালকের বিনিময়ে ৫ ভারতীয় সৈন্য

পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর গুলিতে ভারতের অন্তত পাঁচ সেনা নিহত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সীমান্তে নিয়ন্ত্রণ রেখার কাছে ভারতের একটি চৌকিতে হামলা চালালে এসব সেনা মারা যায়।

পাকিস্তান বলছে, একটি স্কুল ভ্যানে ভারতীয় সেনাদের হামলায় এক ব্যক্তি নিহত হওয়ার পর পাক সেনারা ভারতের ওই সামরিক চৌকিতে হামলা চালিয়ে তা ধ্বংস করে দেয়।

পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর বা আইএসপিআর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাতা পানি সেক্টর থেকে সেনাবাহিনী ভারতীয় চৌকিতে হামলা চালায়। ওই এলাকাতেই স্কুল ভ্যানে গুলি চালায় ভারতীয় সেনারা। পাকিস্তানি সেনাদের হামলায় বহু ভারতীয় সেনা আহত হয়েছে।

আইএসপিআর’র প্রধান মেজর জেনারেল আসিফ গাফুর বলেন, পাকিস্তানের নিরীহ জনগণের ওপর ভারতীয় সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে দাঁতভাঙা জবাব দেয়া হবে।

এর আগে, হাজিরা পুলিশ কমিশনার সিকান্দার হায়াত পাকিস্তানের ইংরেজি দৈনিক ডন-কে জানান, ভারতীয় সেনারা যখন হামলা চালায় তখন ধর্মশাল এলাকার দুটি স্কুল ও কলেজের বহু শিক্ষার্থী বাড়ি ফিরছিল। ভারতীয় সেনাদের গুলিতে স্কুল ভ্যানের চালক তাৎক্ষণিকভাবেই নিহত হন। তবে ছাত্র-ছাত্রীরা সবাই অক্ষত অবস্থায় ভ্যান থেকে বের হতে সক্ষম হয়।

গুলিতে স্কুল ভ্যান চালক নিহত : ভারতীয় কূটনীতিককে ডেকে পাঠালো পাকিস্তান
বিতর্কিত কাশ্মীর অঞ্চলে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ রেখা (এলওসি) বরাবর স্কুল ভ্যান চালককে গুলি করে হত্যার ঘটনায় ভারতীয় ডেপুটি হাইকমিশনার জে.পি. সিংকে ডেকে পাঠিয়ে এ হত্যার আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছে পাকিস্তান। সিনহুয়া এ খবর জানিয়েছে।

বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ এশীয় বিষয়ক ডেস্কের মহাপরিচালক মোহাম্মাদ ফয়সাল ভারতীয় এ কূটনীতিককে ডেকে পাঠিয়ে বট্টাল সেক্টরে বিনা উস্কানিতে অস্ত্রবিরতি লঙ্ঘনের নিন্দা জানান।

এক বিবৃতিতে বলা হয়, যে কোনো ধরনের হামলা চালানো থেকে বিরত থাকার আহবান জানানো সত্ত্বেও ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী অব্যাহতভাবে অস্ত্রবিরতি লঙ্ঘন করে চলেছে। এর ধারাবাহিকতায় ভারতীয় দখলদার বাহিনী বট্টাল-মধারপুর সড়কে স্কুল শিক্ষার্থীদের বহন করা একটি ভ্যানকে লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়ে। এতে ভ্যান চালক সরফরাজ শহীদ হন।

২০০৩ সালে পাকিস্তান ও ভারত এলওসি ও ওয়ার্কিং বাউন্ডারি বরাবর অস্ত্রবিরতির ঘোষণা দেয়। এদিকে আবার উভয় দেশ অস্ত্রবিরতি লঙ্ঘন প্রশ্নে পরস্পরকে দায়ি করে।

Facebook Comments