আওয়ামী লীগ কেন জামায়াত শিবিরকে আঘাত করে,কেন তারা মারমুখো? আবুল বয়ান

জামায়াত শিবিরের লোকজন তো আওয়ামী লীগকে গালি দেয় না,এলাকার কোন লীগের লোক দেখলেও তো অশ্রদ্ধা করে না,কোন লীগের লোকজনকেও তো জামায়াত শিবিরের লোকজনকে খারাপ বলতে শুনে নি কেউ, কেবল মাত্র দলের শিখানো কিছু পুরাতন বানোয়াট রাজাকার অপবাদ হিসাব চাপাই দেয়া ছাড়া,এমন কি তাদের সাথে মওদুদীবাদ নিয়েও কোন বিরোধ নেই, তবু কেন তারা জামায়াত শিবিরকে পেলে হত্যা করবে বা মারধর করবে?

প্রশ্নটির জবাব পাওয়ার আগে প্রতিপক্ষ জামায়াত শিবিরের একটু হিসেব মিলানো যাক,কেমন তারা?দলটির আগা গোড়া হিসেব করতে গেলে আল্লাহর নির্দেশ এবং রাসূল (সঃ) প্রদর্শিত পথে চলাই তাদের একমাত্র লক্ষ,আর সেই লক্ষের বাস্তবায়নের পথ কেবল ইসলামী আন্দোলন,আরে ইসলামী আন্দোলনের জন্য প্রয়োজন উন্নত চরিত্রের আদর্শিক জীবন গড়া,আর তাই এই সংগঠনটিতে সব সময় ইসলামী জ্ঞানও আদর্শ ভিত্তিক প্রতিযোগীতা চলে,যার ফলে এই দলের লোকজন কাউকে খুন খারাপী করে রোকনীয়ত,সদস্য বা সাথী শপথের মতো দলটির কোন প্রকার মানে উন্নয়ন সম্ভব না।

আর এই সুযোগটির বিপরীত কিছু ফায়দা কাজে লাগিয়ে বেড়ায় আওয়ামী লীগ,পারিবারিক কিংবা কোন ব্যক্তি শত্রুতা না থাকলেও তারা জামায়াত শিবিরের উপর আঘাত করে একমাত্র পদের লোভে, এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে নিজের ব্যক্তিগত দাপট সৃষ্টি করতে চায়,দলকেও দেখাতে চায় সব কিছু যেন তারই নিয়ন্ত্রনে,তাই এরা প্রতিপক্ষের উপরে আঘাত করে নিজের ঘরের লোকদের উপরেও প্রভাব বিস্তার করতে চায়,আর সেই দলের নমিনেশন বা যোগ্য প্রমাণিত হওয়ার জন্য কোন আদর্শের প্রয়োজন হয় না, প্রয়োজন কেবল প্রভাবের,আর তাই এরা শুধু প্রতিপক্ষকেই নয়,দরকার হলে নিজেদের ভিতর থেকেও মাথা ফেলে দিতে পিছ পাঁ হয় না,এমন যাদের কার্যনীতি তারা কখনোই সভ্য রাজনীতির ছায়া দেখতে পারে না,তাদের লোকজনই কেবল অসভ্য আচরণ করতে পারে প্রতিপক্ষের উপর।

এখন বলতে পারেন তাহলে মানুষ আওয়ামী লীগ করে কেন?পৃথিবীতে আল্লাহ যেমন মানুষকে পাঠিয়েছেন তার ইবাদত করার জন্য,তেমনি বিধানও দিয়ে দিয়েছেন, যেই বিধানের শর্ত হলো আল্লাহর জমিনে আল্লাহর বিধান ক্বায়েম করা,আর কিছু সুবিধাবাদী লোক মনে করে নিজে পাওয়ারে থাকলে আমি যা খুশি তা করতে পারবো,এদের কোন দল নেই ধর্মও নেই,এমন লোকগুলোই সাধারণত পাওয়ার অর্জনের জন্য নিরিহ মানুষের উপর নির্যাতন জুলম করে নিজেদের ত্রাসের রাজত্ব ক্বায়েম করতে চায়,তাই যত বড় হত্যাযজ্ঞ ঘটনাই ঘটাক না কেন, দলটি যদি হয় আওয়ামী লীগ,তার সাত খুন মাপ হয়ে যাবে।

এমনি করে রাজনৈতিক অঙ্গনকে আজ সমাজের নোংরা আবর্জনার লোকগুলো নিজের দলের ভিতরে পদন্নতি ঘটানোর জন্য নিজেকেই বড় সন্ত্রাস হিসেবে দেখাতে গুপিং করে প্রতিপক্ষের যোগ্য প্রতিনিধিদের এমন কি নিজের পথ পরিস্কার করতে নিজের দলের লোকদেরই হত্যা করে বেড়িয়ে দলের পাপও বৃদ্ধি করে,তাই এরকম অসভ্য রাজনীতির কুশিক্ষা আর কত দূর?

রাজনীতিকে যারা এরোস্টেটলের ভাষায় ব্যাখ্যা দিতেন,মানবতার কল্যানের জন্যই রাজনীতি,আর সাধারণ মানুষ মনে করে সহজ ও সাধারণ কাজকে ঘুরিয়ে প্যাচিয়ে কঠিন ও অসাধারণ করে তুলার নাম হলো রাজনীতি, আজ তাই এক শ্রেনীর অযোগ্য মূর্খ মানুষ রাজনীতিতে ঢুকে সন্ত্রাসের ত্রাসের রাজত্ব ক্বায়েম করেছে,তাই এদের জয়বাংলা স্লোগান শুনলেই মানুষ ভয়ে পালায়, কখন কাকে ধরে মাইর দেয়,আবার কখন নিজেদের মধ্যে লেগে যায়, আর সাধারণ মানুষ এমন ভীতিকে থুথু নিক্ষেপ মনে না করে মূর্খ রাজনীতিবিদরা খুশি হয়ে বলে লোকজন আমাদের ভয় পায়,আর সেটাই হয়ে যায় তাদের জন্য জন সমর্থন।

আজ হিংসাত্মক রাজনীতিবিদরা জানে না কিভাবে স্ব আদর্শে মানুষের সেবা করা যায়,কিভাবে প্রতিপক্ষের রাজনীতিকে সম্মান জানা নো যায়, আর এমন রাজনীতি সম্ভব হতো যদি তারা দেশের সাধারণ মানুষকে সম্মান করতো, তা না করে তারা এমন আগ্রাসী একমাত্র জনগণের ভোটের অধিকার কেড়ে নেয়ার জন্য,অথচ বহির্বিশ্বে একই মঞ্চে বিভিন্ন দলের বক্তব্য হয়, যেখানে কোন নেতাকে খুশি করতে প্রতিপক্ষের কর্মীকে হত্যা করে না কেউ পদ লোভের আশায়।

আল্লাহ আমাদের দেশের সকল রাজনৈতিক দলের মাঝে হিংসা বিদ্বেষ তুলে দিয়ে ভোটের অধিকারের মাধ্যমে সকল রাজনীতিবিদদের মাঝে ভ্রতৃত্ববোধ সৃষ্টি করে দিক,আমীন।

Facebook Comments