নির্বাচনী কর্মকর্তাদের বদলির ক্ষমতা চায় ইসি

ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সদস্যদের বদলির ক্ষমতা চায় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ জন্য আরপিওর ৭(৬) ধারায় সংশোধনী আনছে এই নির্বাচনী সংস্থাটি। এতে ইসির নির্দেশের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যে কাউকে বদলি করতে বাধ্য থাকবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ওই আদেশ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন না হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে নির্বাচন কর্মকর্তা (বিশেষ বিধান) আইন, ১৯৯১ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার বিধান যুক্ত করা হচ্ছে। এ ছাড়া আরপিওতে ৩৪টি সংশোধনী আনার প্রস্তাব আনছে ইসির আইন সংস্কার কমিটি। সম্প্রতি আইন সংস্কার কমিটির সভায় এসব সংশোধনী এনে আরপিওর খসড়া প্রায় চূড়ান্ত করা হয়।

ইসি সূত্র জানায়, নির্বাচনী কাজে নিয়োজিত সরকারি, আধাসরকারি ও বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলির বিধান বর্তমান আরপিওতে নেই। তবে কাউকে প্রত্যাহার করতে হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানায় ইসি। অনেক ক্ষেত্রে ওই অনুরোধ পালনে গড়িমসি বা সময়ক্ষেপণ করে। কোনো কোনো সময়ে ইসির অনুরোধে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হলেও নির্বাচনের পর ফের সেই কর্মস্থলে পাঠানো হয়। ফলে ওই নির্বাচনী এলাকায় ওই কর্মকর্তার প্রচ্ছন্ন প্রভাব থেকেই যায়। এসব বিবেচনায় আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রত্যাহার ও বদলি উভয় ক্ষমতা ইসির হাতে রেখে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ (আরপিও)-এর ৭(৬) ধারায় সংশোধন আনছে ইসি।

ইসির খসড়ায় দেখা গেছে, আরপিওর ২২(এ) ধারায় পোলিং এজেন্টদের বিষয়টি নতুনভাবে সংযোজনের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট ফরমে পোলিং এজেন্টদের উপস্থিতি স্বাক্ষর, ভোট গ্রহণের সময়ে বাইরে গেলে এবং আবার ফেরত এলে সময় উল্লেখ করে এতে স্বাক্ষর করতে হবে।

এ বিধান সংযোজনের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে আইন সংস্কার কমিটির একাধিক সদস্য বলেন, নির্বাচনে ভোট গ্রহণের সময়ে দেখা যায় প্রার্থী বা রাজনৈতিক দলের এজেন্টরা অকারণেই ভোটকেন্দ্র থেকে বেরিয়ে যান এবং তাদেরকে বের করে দেয়া হয়েছে এমন অভিযোগ করেন। এসব অভিযোগ ঠেকাতে এ বিধান সংযোজন করা হচ্ছে। বর্তমানে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এ বিধান রয়েছে বলেও জানান তারা।

আরপিওর ২৭(১)(২) ধারায় নির্বাচনে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ভোট দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে আগাম ভোটগ্রহণ ব্যবস্থার প্রস্তাব করা হয়েছে।

ইসির কর্মকর্তারা জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৪০ হাজার কেন্দ্র ও দুই লাখ ভোটকক্ষ থাকে। এতে ৪০ হাজার প্রিজাইডিং অফিসার ও ৬ লাখ ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা দায়িত্বে থাকেন। এ ছাড়া প্রতিটি কেন্দ্রে ১২ জন পুলিশ সদস্য থাকেন। এ হিসাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৪ লাখ ৮০ হাজার সদস্য ভোট দিতে পারেন না। এর বাইরে স্ট্রাইকিং ও মোবাইল ফোর্স হিসেবে আরো কয়েক লাখ সদস্য ভোট দিতে পারেন না। তাদের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে এ বিধান যুক্তের প্রস্তাব করা হয়েছে।

আইন সংস্কার কমিটির প্রধান ও নির্বাচন কমিশনার কবিতা সাংবাদিকদের বলেন, দুটি বিষয় ছাড়া আরপিও সংশোধনের খসড়া মোটামুটি চূড়ান্ত করা হয়েছে। বিষয় দুটি হচ্ছে- আগাম ভোটিং ও নির্বাচনী তদন্ত কার্যক্রম। এ দুটি বিষয়ে নতুন কিছু করা যায় কি না, তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে সংশ্লিষ্টদের বলা হয়েছে। তিনি বলেন, ফেব্রুয়ারি মাসেই কমিশন সভায় খসড়াটি অনুমোদনের জন্য তোলা হবে।

এ ছাড়া আরপিওর ১২(৩এ)(এ) ধারায় স্বতন্ত্র প্রার্থিতার বিধান সহজ করে এক হাজার ভোটারের সমর্থনসূচক স্বাক্ষরের তালিকা জমা দেয়ার বিধান যুক্তের কথা বলা হয়েছে। বর্তমানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে ওই সংসদীয় আসনের মোট ভোটারের ১ শতাংশের সমর্থনসূচক স্বাক্ষর জমা দেয়ার বিধান রয়েছে।

এ ছাড়া আরপিওর ৮৩ ও ৮৬ ধারায় ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সদস্যদের সাজার সর্বনি¤œ মেয়াদ এক বছর থেকে বাড়িয়ে তিন বছর এবং সর্বোচ্চ মেয়াদ পাঁচ বছর থেকে বাড়িয়ে সাত বছর করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া আরপিওর ৯১সি(৮) ধারায় ব্যয় মনিটরিংয়ে তৃতীয়পক্ষ নিয়োগের প্রস্তাব করা হয়েছে।

Facebook Comments