একটি চিরবিজয়ী ইসলামী গণতান্ত্রিক সংগঠনের নাম বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

জামায়াতে ইসলামীর সাথে অন্যান্ন রাজনৈতিক দলের সাথে পার্থক্য কিংবা মতভেদের শুরু যেখান থেকে ,ঠিক সেখানে এসেই ভিন্ন মতের রাজনৈতিক দলগুলোকে এসে তাদের রাজনৈতিক সুচনা করতে হয়েছে,যারা রাজনীতি হারাম বলেছেন,তারাই এখন রাজনীতি করছেন,যারা গণতন্ত্র হারাম বলেছেন,তারাই এখন বিভিন্ন রাজনৈতিক জোটের সাথে মিশে আসন দাবি করছে,পরিশেষে তারা সকলেই জামায়াতের সাথে যে সকল বিষয়ে বিরোধ,এক সময়ে এসে তা করলেও জামায়াতের বিরোধীতা করতে ঠিকই ভুলেন নি,এরই নাম জামায়াত বিরোধী ইসলামী আন্দোলন।

মুখে গনতন্ত্র বিরোধী ইসলামী ফতুয়া দিয়ে পায়জামা পাঞ্জাবী পরা বহু অকর্মা আলেম আছেন,তারা যদি মন প্রাণ থেকে গণতন্ত্র বিরোধী আন্দোলন করতেন,এই যুগে এসে পিঠের চামড়া থাকতো কি না সন্দেহ,আসলে ঠিক তা নয়,তাদের গণতন্ত্র হারাম ফতোয়াটি কেবল মাত্র জামায়াত বিরোধী ফতোয়া। খেলাফতের এর সাধারণ অর্থ যদি বলতে হয়,বলতে হবে ক্ষমতা.যদিও বিভিন্ন ভাষায় অনেক বড় বড় নামধারী জুব্বা পরিহিত আলেমগন বিভিন্ন অর্থ প্রয়োগ করে এর ভুল ব্যাখ্যা করেন,খেলাফত এমন একটি পন্থা যা ইসলামী নেতৃত্বের হাতে গেলে কোরআনিক পদ্ধতিতে রাষ্ট্রী ব্যবস্থা সম্ভব,আর বাতিলে হাতে গেলে শয়তানের রাজত্ব ক্বায়েম হয়ে যায়।

যুগে যুগে ইসলামকে ক্ষমতা থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে শয়তানের হাতে ক্ষমতা যাওয়ার ফলে তারা খেলাফতের নাম পরিবর্তন করে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন নামে ব্যবহার করে,ইতিহাস প্রমাণ দেয় খোলাফায়ে রাশেদীনের খেলাফতকাল অতিবাহিত হওয়ার পর এই ক্ষমতায়নের নাম হয় বিভিন্ন গোত্রীয় শাসনের নামে,তার পরবর্তীতে রাজতন্ত্র, সৈরতন্ত্র, গনতন্ত্র ইত্যাদী নামে পরিবর্তন হয়,আর কিছু দুনিয়া লোভী অকর্মা আলেম সমাজ গণতন্ত্র হারাম,এই হারাম সেই হারাম বলে সেই হারাম তন্ত্রের দাসতন্ত্রে রুপান্তরিত হয়েছে।

যারা বলে গণতন্ত্র হারাম,তারাই গণতন্ত্রের দাস,আফসোস,এরা গণতন্ত্র বিরোধী আন্দোলনও করে না,কেবল হারাম ফতোয়া দিয়ে মানুষের মাঝে বিভ্রান্তি ছড়ায়, এর চেয়ে বড় জাহেলী আর কি হতে পারে? গণতন্ত্র হারাম ফতোয়া দিয়ে মোটা চাল গিলবে,অথচ তাদের কাছে গণতন্ত্র বিরোধী কি কোন কর্মসূচী কি আছে, ইসলামী শিক্ষার নামে সাধারণ মানুষদের সম্পদ লুট করা গনতন্ত্রের প্রতিনিধিদের আমন্ত্রন জানিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা আদায় করবে দ্বীনি প্রতিষ্ঠানের নামে,আর মেহনতী মানুষের কষ্টার্জিত চুরি করা টাকা তারা জায়েজ বলে গ্রহণ করে হারাম হালালের ফতোয়া দিবে,কোন প্রকারের ইসলামী আন্দোলন কিংবা রাষ্ট্র ক্ষমতায় ইসলামী আইন প্রনয়নের প্রয়োজন নেই, এই ধরণের ধৃষ্টতা কি ইসলাম কাউকে দিয়েছে?আর এমন হারাম ফতোয়া দিলেই কেবল জনসাধারনের কাছে ইসলামকে দূরে সরিয়ে রাখা যাবে,আর এতে বাতিলের রাজত্ব ক্বায়েম অব্যাহত থাকবে,যা ইসলাম বিরোধী চক্রান্ত ছাড়া আর কিছুই নয়।

দ্বীন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে সামনে রেখে রাসূল (সঃ) দাওয়াতী কাজের পাশাপাশি প্রশিক্ষন গ্রহণসহ বিভিন্ন শত্রু পক্ষের মোকাবেলায় জিহাদে নেতৃত্ব দান এবং পরিশেষে মক্কা বিজয়ের মাধ্যমেই ইসলাম বিজয়ী হয়, বাতিলের পতন ঘটিয়ে গড়েছেন ইসলামী খেলাফত কাল,অথচ তার আগ পর্যন্ত রাসূল (সঃ) কখনোই কাফেরদের গড়া শাসন ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন নি,কেবল মাত্র এক আল্লাহর একত্ববাদের আন্দোলনের দিকে আহবান দিয়েই এই বিজয় অর্জিত হয়।

রাসূল (সঃ) রাষ্ট্র বিরোধী বক্তব্য দিয়ে ছিলেন,এমন অভিযোগও কেউ করতে পারে নি,শুধুমাত্র আল্লাহর দ্বীনের দাওয়াত দেয়ার ফলেই নবুয়ত প্রাপ্তির আগে আল আমিন উপাধিতে ভুষিত করা ব্যক্তিগুলোই রাসূল (সঃ)কে হত্যার মতো জগণ্য পরিকল্পনা গ্রহণ করা,আর তাই রাসূল (সঃ) থাকতে পারেন নি নিজ জন্ম ভূমিতে,ইসলাম প্রচার প্রসারের জন্য সুদূর মদীনায় হিজরত করে জন্ম ভূমির মায়া ত্যাগ করতে হয়।আর সেই বিজয় অর্জিত হয় ইসলাম বিজয়ের মধ্য দিয়ে।

সুতরাং যারা জামায়াতে ইসলামকে গণতন্ত্র হারাম বলে বাতিল আখড়া দেয়,কোন একদিন জামায়াতে ইসলাম প্রত্যক্ষ ভোটে ক্ষমতায় আসলেও সকল বাতিল চক্র যখন জামায়াতের বিরুদ্ধে উঠে পড়ে লাগবে,তখনও এই আলেমরা খেলাফতের পথে আন্দোলন করতে পারবে না,তার অন্যতম কারণ হলো ময়দানের জ্ঞান না থাকা,রাসূল (সঃ) এর আদর্শ অনুসরণ করে ইসলামী আন্দোলনের প্রশিক্ষন না নেয়া,তাই আখের কোন দিন সমগ্র বিশ্ব জুড়ে জিহাদের ডাক আসলেও এরা জামায়াতে ইসলামী হারাম ফতোয়া দিয়ে আবদুল্লাহ ইবনে উবাইয়ের দলে যোগ দিয়ে জিহাদের ময়দান থেকে পিছু হাঁটবে।

পবিত্র কোরআনের যত আইন কানুন আছে,যা কখনোই কোরআনী সংবিধান অনুযায়ী ক্ষমতা গ্রহণ বিনে কখনোই সম্ভব নয়,সুতরাং যে সমস্ত আলেমরা কোরআনের বিপ্লবে বাঁধা দেয়,তারা আলেম তো দূরের কথা মুসলমান হওয়া ও সম্ভব না, ইসলাম কোন মাদ্রাসা থেকে নির্গত হওয়া বিধান নয়, রাসূল (সঃ) এর কাছে ওহী প্রেরিত আল্লাহক একমাত্র মনোনীত ধর্মের নাম ইসলাম,ঠিক তেমনি জামায়াতে ইসলামীও কোন মাদ্রাসার লেবাস বেষ্টিত বাতিলের তাবেদারী কোন সংগঠন নয়, রাসূল (সঃ) প্রদর্শিত দেখানো পথের ইসলামী আন্দোলনের কান্ডারী একটি বাতিলের আঘাতে রক্ত ঝরা একটি সংগঠন,যে স্তম্ভের সাহায্যকারী দুনয়িার কেউ নয়,স্বয়ং আল্লাহ রাব্বুল আল্লাহ রাব্বুল আলামীন থেকে সাহায্যকামী সংগঠন, অন্যথায় কোন ব্যক্তি কিংবা কোন মাদ্রসা নামক প্রতিষ্ঠান ব্যতিত এই সংগঠন টিকে আছে কিসের উপর,যাদের একমাত্র খুটি রাসূল (সঃ) এর দেখানো ইসলামী আন্দোলনের পথ,অন্যথায় কোন দিনও সম্ভব হতো না।

আল্লাহ আমাদের সকলকে ইসলামী আন্দোলনের সমষ্ঠিগত পথে সবাইকে সামিল করুক,আমীন।।

Facebook Comments