প্রকাশ্যে বাংলাদেশ সীমান্তে এন্টি পার্সোনাল মাইন পুঁতে রাখছে মিয়ানমার!

শনিবার সকাল ১০টায় বান্দরবনের নাইক্ষ্যাংছড়ি উপজেলার তমব্রু’র সীমান্তে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মিয়ানমার সেনা সদস্যরা কয়েকটি দলে বিভক্ত হয়ে সীমান্তে মাইন পুঁতে রাখছে। বিশেষ করে যেসব জায়গা দিয়ে রোহিঙ্গারা চলাচল করেন সেসব এলাকাতেই মাইন পুঁতছেন তারা। মাইন পুঁতে রাখার ১৫০-২০০ গজের মধ্যে অবস্থান করছেন প্রায় ১০ হাজার রোহিঙ্গা।ওই এলাকায় আগে থেকেই বসবাস করা কয়েকজন রোহিঙ্গা বলেন, মিয়ানমার সেনাবাহিনী সকাল ৭টা থেকে শুরু করে ১০টা পর্যন্ত মাইন পুঁতেছে। এমন ঘটনায় আমরা খুবই আতঙ্কিত।

তবে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর এমন কাজের পর সীমান্তে সংঘাত এড়াতে সেখানে সাদা ও নীল রঙের পতাকা নিয়ে হাজির হন কয়েকজন বিজিবি সদস্য। বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যদের পতাকা ওড়ানো দেখে মিয়ানমার সেনা সদস্যরা ওই এলাকা ত্যাগ করে চলে যান। ওই সময়ে তাদের সঙ্গে অত্যাধুনিক বিভিন্ন অস্ত্র দেখা যায়।ওই এলাকার রোহিঙ্গারা বলেন, ছোট বাচ্চাদের নিয়ে যাতে আমরা চলাচল করতে না পরি সেজন্যই মাইন পুঁতে রাখছেন তারা। রাস্তার মাঝে এমনভাবে তারা মাইন পুঁতে রেখেছেন যাতে মানুষ হাঁটতে গেলে মাইনের বিস্ফোরণে মারা যায়।

এভাবে মাইন পুঁতে রাখা এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর গুলি বর্ষণে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ বিষয়ে কক্সবাজারের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম বলেন, গত কয়েকদিনে সীমান্তের ওপাড়ে আমরা মিয়ানমার সেনাবাহিনীর টহলের সংবাদ শুনতে পেয়েছি।এ ঘটনায় স্থানীয়রা অনেক আতঙ্কিত বলে জানিয়ে বান্দরবনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আজিজুর রহমান বলেন, মিয়ানমার সেনাবাহিনী সীমান্তবর্তী এলাকায় রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে এবং সীমান্তে ১ হাজারেরও বেশি মাইন পুঁতে রেখেছে।
মিয়ানমার সেনাবাহিনীর এসব উস্কানিমূলক কাজের নিন্দা জানিয়ে বিজিবি-৩৪ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মঞ্জুরুল হাসান খান বলেন, গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধির পাশাপাশি তাদের গতিবিধির ওপর বিশেষভাবে নজর রাখা হচ্ছে।

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *