শায়খ ইউসুফ আল কারজাভির পরোয়ানা প্রত্যাহার

মিশরের প্রধান রাজনৈতিক দল মুসলিম ব্রাদারহুডের আধ্যাত্মিক নেতা আল্লামা ইউসুফ আল কারজাভির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা প্রত্যাহার করেছে ইন্টারপোলস্থানীয় সময় রোববার যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা আরব অর্গানাইজেশন ফর হিউম্যান রাইটস (এওএইচআর) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।বিবৃতিতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থাটি উদ্ঘটন করতে সক্ষম হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে খ্যাতিমান ধর্মীয় নেতা কারজাভির বিরুদ্ধে ২০১৪ সালে আনা অপরাধের অভিযোগ সরকারের বিরোধিতা ছাড়া আর কিছু নয়।আল্লামা কারজাভি বর্তমানে নির্বাসিত জীবনযাপন করছেন।

এওএইচআরের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ জামিল বলেন, গ্রেফতারি পরোয়ানার তালিকা থেকে আল্লামা কারজাভির নাম বাদ দেয়ার বিষয়ে ইন্টারপোলের সিদ্ধান্ত মূলত মিশরের বর্তমান ক্ষমতাসীনদের পরাজয়।তিনি বলেন, এ সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে মিশরীয়দের হত্যা, নির্বাহী আদেশে ব্যাপক ধরপাকড় ও গুম, বন্দিদের কাছ থেকে জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি নিতে নির্যাতন চালানো এবং বিশ্বব্যাপী অপরাধের বিরুদ্ধে লড়াইরত ইন্টারপোলের রেড নোটিশের অপব্যবহারের বিষয়টি ফুটে উঠেছে।

এওএইচআর জানিয়েছে কারজাভির বিরুদ্ধে জারি করা রেড নোটিশের বিষয়ে ইন্টারপোল তাদের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা ও যোগাযোগ করেছে।উল্লেখ্য, ৯১ বছর বয়সী আল্লামা কারজাভি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক স্কলার্স ইউনিয়নের চেয়ারম্যান।২০১৩ সালে ব্রাদারহুড সমর্থিত নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসির বিরুদ্ধে তৎকালীন সেনাপ্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল সিসির নেতৃত্বে সেনা অভ্যুত্থান হয়।

এরপর কারজাভির বিরুদ্ধে ডাকাতি, অগ্নিসংযোগ ও হত্যার অভিযোগ এনে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।কিন্তু যে সময়ে ওইসব ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করা হয়েছে, তখন কারজাভি মিশরে না থাকায় পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো যে মিথ্যা ও বানোয়াট তা প্রমাণিত হয় বলে বিবৃতিতে জানায় এওএইচআর।

আর কারজাভির মতো বয়স্ক সম্মানিত মানুষ ডাকাতি-হত্যার মতো কাজে জড়িত বলে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি বলেও উল্লেখ করে সংস্থাটি।মোহাম্মদ জামিল অভিযোগ করেছেন, কারজাভির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির নেপথ্যে অনেক দেশ, বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাত জড়িত।

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *