১৮৯৭ থেকে ২০১৭ জেরুজালেমের রোডম্যাপ

ইহুদি রাজধানী হিসাবে জেরুজালেমকে স্বীকৃতি দেয়া প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঘোষণার আলোকে মুসলমানদের অবশ্যই ইতিহাসের যে প্রাথমিক রূপরেখাটি জানা উচিত:

১৮৯৭ : সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হয় প্রথম বিশ্ব জায়ানিস্ট কংগ্রেস।
– ফিলিস্তিনে ইহুদিদের জন্য একটি বাড়ি প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা ঘোষণা করে।
– প্রায় ৫০ বছর যাবত বিশ্বের অধিকাংশ ইহুদী এই জায়ানবাদের (ইহুদিবাদের) বিরোধিতা করেছিল (হোলোকাস্ট পর্যন্ত)
– এ সময় ইহুদীরা ফিলিস্তিনে মুসলমান ও খ্রিস্টানদের সাথে শান্তিতে বসবাস করত এবং তারা ছিল মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩% ।

১৯১৭ : বেলফোর ঘোষণা
– যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লর্ড বেলফোর ফিলিস্তিনে ইহুদিদের জন্য একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে সম্মত হন।
– প্রায় ১১% ভূমি এসময় ইহুদীরা দখল করে নিয়েছে, যাদের বেশিরভাগই ইউরোপ থেকে আসা জায়ানবাদের মতাদর্শে বিশ্বাসী এবং তাদের আর্থিক সাহায্যের উপর নির্ভরশীল।

১৯২২ : লীগ অফ নেশনস যুক্তরাজ্যকে প্যালেস্টাইনের জন্য একটি ম্যান্ডেট প্রদান করে।
– কার্যতঃ ব্রিটেনকে সেখানে বসবাসকারীদের অনুমতি ছাড়াই জমিটির রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ দেওয়া হয়।
– কর্তৃপক্ষ ইহুদিদের এই আগমনকে সীমাবদ্ধ করার চেষ্টা করলে, জায়ানবাদীরা গোষ্ঠীর সন্ত্রাসীরা তাদের আক্রমণ করে (সর্বাপেক্ষা বিখ্যাত কিং ডেভিড হোটেলের বোমাবর্ষণ, যাতে প্রায় একশ লোক মারা গিয়েছিল)। ফলে ব্রিটেন বুঝতে পেরেছিল যে তারা একটি গভীর গর্তে গিয়ে পড়েছে। প্রতিক্রিয়াতে,তারা কেবল এটি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

১৯৪৮ পরবর্তী: ইসরায়েল জাতি রাষ্ট্র তৈরি করা হয়
– ঠিক সে সময়, প্রায় এক মিলিয়ন ফিলিস্তিনিকে জোরপূর্বক ভূমি থেকে বের করে দিয়ে ইসরায়েল জমিগুলো দখল নিয়ে নেয়।
– দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইসরায়েলে ইউরোপীয় ইহুদিদের ব্যাপক অভিবাসন ঘটতে থাকে। জনসংখ্যাতাত্ত্বিক পরিবর্তনের কারনে ক্রুসেডের পর প্রথমবারের মতো ইসরায়েল অমুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ ভূখন্ডে পরিণত হয়।
– জাতিসংঘ চুক্তির আওতায় জেরুজালেম জর্ডান (পূর্ব জেরুসালেম) এবং ইসরায়েল (পশ্চিম জেরুসালেম) উভয়ের দ্বারাই নিয়ন্ত্রিত হত।

১৯৬৭ : ইসরায়েল পূর্ব জেরুজালেম আক্রমণ করে তা দখল করে। আল আক্বসা কমপ্লেক্সটি বোমায় সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়। এখন জেরুজালেম ইসরায়েল দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।

১৯৬৭-ডিসেম্বর ২০১৭: ইতিহাসকে উপলব্ধি করে এবং জাতিসংঘ জেরুজালেমকে মুসলমান ও ইহুদীদের মধ্যে ভাগ করে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে এই চিন্তা থেকে বিশ্বের কোন দেশ জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি।

– ইসরায়েলের বাইরে ট্রাম্প বিশ্বের প্রথম নেতা যে জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজনৈতিক রাজধানী বিবেচনা করে।
বর্তমান পরিসংখ্যান ইঙ্গিত দেয় যে ইসরায়েলের প্রায় ৭৫% ইহুদি ঘরানার এবং ১৭% মুসলমান।

ইতিহাস দেখায় যে নিপীড়ন কখনও শান্তি আনতে পারে না। এবং আমরা যারা ইব্রাহীমের ধর্মতত্ত্বে বিশ্বাসী তা আমাদের সকলকে শেখায় যে, যারাই জুলুম করবে তাদের এ দুনিয়া এবং পরকালে উভয় স্থানে তার পরিনাম ভোগ করতে হবে।

মানুষের প্রতি মানুষের অবিচার সবচেয়ে বড় পাপ। আর আল্লাহ্ বিচারকে কখনোই বল্গাহীনভাবে ছেড়ে দেন না।

Facebook Comments