রাজ পরিবারের উচ্ছিষ্ট ভোগী আলেমরা এখন কি করবেন?

বিগত কয়েক দশক ধরে সৌদি রাজপরিবারের যত অপকর্ম আছে সবই ‘হালাল’ ঘোষণা করে করে দিন পার করেছেন সৌদি আরবের সরকার-অনুগত আলেমরা। ‘গ্রান্ড মুফতি’ নামের একটি পদে কিছু দিন পর পর সৌদি রাজপরিবার একেক আলেমকে বসাতো, আর সরকারি এজেন্ডার পক্ষে ধর্মভীরু মানুষের সম্মতি উৎপাদন করতো। মিশর, ইয়েমেন, ফিলিস্তিন, এবং সৌদি আরবের ভেতরে রাজপরিবার যেসব অন্যায় কাজ করতো, বা প্রশ্রয় দিতো সব কিছুকে জায়েজ করে ফতোয়া দিতেন এইসব আলেমরা। মুসলিম ব্রাদারহুড ও হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন বলে সরকারি আদেশকে এই আলেমরা সমর্থন করতেন। কেউ কেউ তো আগ বাড়িয়ে এইসব ইসলামপন্থী সংগঠনকে ‘ইসলাম থেকে খারিজ’ করেও দিয়েছেন।

কিন্তু গতকাল মঙ্গলবার সৌদি প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান এই সব সরকারি দালাল এবং তথা কথিত ‘রক্ষণশীল’ সৌদি সমাজের ’ত্রাণকর্তা’ আলেমদের গালে চপেটাঘাত করেছেন। নিজেদের ধর্মীয় পরিচয়কে কাজে লাগিয়ে এই আলেমরা সরকারি সুবিধা ভোগ করে আসছিলেন। কিন্তু বিন সালমান চাচ্ছেন সেই সমাজ থেকে তাদের প্রভাব কমিয়ে দিতে। তিনি বলেছেন, ‘এখন থেকে সৌদি আরব মডারেট ইসলামের দিকে ঝুঁকবে।’ ‘মডারেট’ শব্দটি দিয়ে তিনি কী বুঝিয়েছেন নিজেই জানেন। তবে এ থেকে যেটা বুঝা যাচ্ছে তা হলো, কট্টর সালাফি বা ওয়াহাবি মতবাদের অনুশীলন থেকে সৌদি আরব সরে আসতে চাচ্ছে। অথচ, সৌদির সরকারি সুবিধাভোগী আলেমরা এই মতাদর্শে বিশ্বাসী।

ধারণা করা যায়, বিন সালমান মার্কিনীদের চাওয়া যে ‘মডারেট’ ইসলাম সেটার কথাই বুঝিয়েছেন। অর্থাৎ, আমেরিকা যেমন ইসলাম চায় সেটা সৌদিতে আমদানি করতে চান সামনে বাদশাহ হওয়ার জন্য আমেরিকানদের মদদপ্রার্থী বিন সালমান। এখন সৌদির সরকারি আলেমরা কি আমেরিকার প্রার্থিত ইসলাম সৌদিতে আমদানির পক্ষে থাকবেন? এটাকেও জায়েজ করতে ফতোয়া দেবেন? নাকি নিজেদের রুটি রুজিতে ভাগ পড়ার ভয়ে বিদ্রোহ করবেন?! বিন সালমান তো তাদের ওয়াহাবি সালাফি চিন্তার বিরুদ্ধেই দাঁড়ালেন এখন।

ক্রাউন প্রিন্সের ঘোষণা ঃ সৌদি আরবে ফিরিয়ে আনা হবে ‘মধ্যপন্থী ইসলাম’

সৌদি আরবের ক্ষমতাধর ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান বলেছেন, তার দেশে কট্টর রক্ষণশীলতা ভেঙে মধ্যপন্থী ইসলাম প্রতিষ্ঠা করা হবে।

রিয়াদে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের এক সম্মেলনে মঙ্গলবার তিনি এ ঘোষণা দেন। ৩২ বছর বয়সী এই লেৌহমানব এদিন লোহিত সাগরের তীরে ৫০ হাজার কোটি ডলার ব্যয়ে নতুন মেগা সিটির গোড়াপত্তন করেন এবং সেখানে আলাদা আইন চলবে বলে ঘোষণা দেন।

সালমান বলেন, ‘আমরা স্বাভাবিক জীবন চাই। যে জীবনে ধর্মের মানে হচ্ছে সহনশীলতা ও দয়ার ঐতিহ্য।’

তিনি বলেন, ‘ধ্বংসাত্মক ধ্যান-ধারণা নিয়ে আমরা আর চলতে চাই না। সেগুলো আজ থেকেই ধ্বংস করে ফেলা হবে। আমরা শিগগিরই চরমপন্থার ইতি টানব।’

সত্তরের দশকের আগ পর্যন্ত সেৌদি আরবে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছিল। এরপর ১৯৭৫ সালে বাদশাহ ফয়সালকে হত্যার পর দেশটি কট্টর রক্ষণশীলদের শাসনে চলে যায়।

সালমান বলেন, ‘আমরা আগে যে রকম ছিলাম সেই অবস্থায় ফিরে যাচ্ছি, সেটা হচ্ছে মধ্যপন্থী ইসলাম, যা সব ধর্মের বিশ্বের সব মানুষের জন্য উন্মুক্ত।’

Facebook Comments