আর্জেন্টিনার বাঁচা মরার লড়াই

বিশ্বের সেরা ফরোয়ার্ড লাইন নিয়েও লিও মেসির নেতৃত্বাধীন আর্জেন্টিনা দল গোলের খরায় ভুগছে কেন? এই প্রশ্নের উত্তর এখনও খুঁজে পায়নি ফুটবল দুনিয়া। কে নেই আর্জেন্টাইন আপফ্রন্টে? লিও মেসি, সের্গিও আগুয়েরো, গঞ্জালো ইগুয়েন, পাওলো ডায়বালা, অ্যাঞ্জেল ডি’মারিয়া, মাওরো ইকার্ডি, জেভিয়ার পাস্তোরে–বিশ্বের যে কোনও দলের এই ফরোয়ার্ড লাইন থাকলে তারা বিপক্ষকে গোলের বন্যায় ভাসিয়ে দিত। কিন্তু আন্তর্জাতিক ম্যাচে এরা কেন আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের জার্সি গায়ে চাপিয়ে লিও মেসির সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারছেন না?

বৃহস্পতিবার রাতে বোকা জুনিয়ার্সের নিজস্ব মাঠ বোম্বোনেরা স্টেডিয়ামে ৪৯ হাজার দর্শক আর্জেন্টিনার জয় কামনা করে গলা ফাটাবেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও কোনও গ্যারান্টি নেই মেসিরা শেষ পর্যন্ত ম্যাচ জিতে মাঠ ছাড়তে পারবেন কি না? বিশ্বকাপের বাছাই পর্বে ১৬টি ম্যাচে মাত্র ১৬টি গোল করেছে আর্জেন্টনা। এই মুহূর্তে তারা বাছাই পর্বে পয়েন্ট টেবলে পঞ্চম স্থানে রয়েছে। যদি ষষ্ঠ স্থানে থাকা কোপা আমেরিকা চ্যাম্পিয়ন চিলি (আর্জেন্টিনার থেকে ১ পয়েন্টে পিছিয়ে) বৃহস্পতিবার হোম ম্যাচে ইকুয়েডরের সঙ্গে ড্র করে, আর পেরু যদি হারিয়ে দেয় আর্জেন্টিনাকে তাহলে রাশিয়া বিশ্বকাপের দরজা বন্ধ হয়ে যেতে পারে মেসিদের সামনে। ১৯৭০ সালে মেক্সিকো বিশ্বকাপে মূলপর্বে উন্নীত হতে পারেনি আর্জেন্টিনা। ১৯৬৯ সালে তারা এই মাঠে বাছাই পর্বের ম্যাচে পেরুর সঙ্গে ২-২ ড্র করে বিশ্বকাপের মূলপর্বে খেলার সুযোগ হারিয়েছিল। আবার কি সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটবে? মেসিহীন বিশ্বকাপের কথা ভাবাই যায় না। পরের সপ্তাহে ইকুয়েডরের বিরুদ্ধে বাছাই পর্বের শেষ ম্যাচটি খেলবে আর্জেন্তিনা। শেষ দু’টি ম্যাচে জিতলে মেসিদের বিশ্বকাপের মূলপর্বে খেলা নিশ্চিত হবে। কারণ, পঞ্চম স্থানে থেকে প্লে-অফ খেললেও নিউজিল্যান্ডকে হারানোর ক্ষমতা বিলক্ষণ রয়েছে আর্জেন্টিনার।

২০১৭ সালে বিশ্বকাপের বাছাই পর্বের চারটি ম্যাচ খেলেছে আর্জেন্টিনা। এর মধ্যে প্রথম দু’টি ম্যাচে কোচ ছিলেন এডগার্ডো বাউজা ও পরের দু’টি ম্যাচে জর্জে স্যাম্পাওলি। তবুও সুদিন ফেরেনি আর্জেন্টিনার। চিলি, ভেনেজুয়েলা, উরুগুয়ে ও বলিভিয়ার বিরুদ্ধে শেষ চারটি ম্যাচে মাত্র দু’টি গোল করেছে আর্জেন্টিনা। তার মধ্যে একটি গোল ছিল চিলির বিরুদ্ধে মেসির পেনাল্টি থেকে। আর একটি ম্যাচে ভেনেজুয়েলার ফুটবলার রোডলফো আত্মঘাতী গোল করেছিলেন।
পরিসংখ্যান বলছে, অ্যাঞ্জেল ডি’মারিয়ার কৃতিত্বে কলম্বিয়াকে ৩-০ গোলে হারানোর পর বিগত ৩৬৬ মিনিটে মেসিরা কোনও ওপেন প্লে থেকে ফিল্ড গোল করতে পারেননি। সাম্পাওলির হাই প্রেসিং ফুটবলও কার্যকরী করতে ব্যর্থ হচ্ছেন মেসিরা। তাই চরম হতাশা থেকে গত ৫ সেপ্টেম্বর আর্জেন্টিনার কোচ জর্জ সাম্পাওলি বলেছিলেন, ‘আপনি যদি ১১টা সুযোগ পেয়ে একটাও গোল করতে না পারেন তাহলে আর ম্যাচ জিতবেন কীভাবে?’ গোলমুখে ব্যর্থতার মাশুল প্রতি ম্যাচেই গুণছে আর্জেন্টিনা। কেন বিশ্বের সেরা আপফ্রন্ট নিয়েও গোল পাচ্ছে না আর্জেন্টিনা, সেটা দুনিয়ার ফুটবল পণ্ডিতদের কাছে এক বিরাট ধাঁধা।

চোটের জন্য এই ম্যাচে আগুয়েরোকে পাবে না আর্জেন্টিনা। গত বছর সিরি ‘এ’তে জুভেন্তাসের হয়ে ৩২ গোল করা ইগুয়েনকে দলে নিয়মিত এখন ব্যবহার করেন না সাম্পাওলি। অথচ এই নতুন মরশুমেও মেসি সাত ম্যাচে ১১ গোল, ডায়বালা সাত ম্যাচে ১০ গোল, আগুয়েরো ছয় ম্যাচে ৬ গোল, ইকার্ডি সাত ম্যাচে ৬ গোল করেছেন যে যার ক্লাবের হয়ে। আসলে, দক্ষ কোনও গেম মেকার নেই আর্জেন্তিনার মিডফিল্ডে। এভার বানেগা, অ্যাঞ্জেল ডি’মারিয়া, লুকাস বিগিলা, জেভিয়ার পাস্তোরেরা যথার্থ অ্যাসিস্ট বাড়াতে ব্যর্থ। তাই এই আর্জেন্টিইন মিডফিল্ডের কোনও সৃজনশীলতা নেই। এই কারণেই ২০১৪ বিশ্বকাপ ফাইনাল, ২০১৫ কোপা আমেরিকা ফাইনাল এবং ২০১৬ সেন্টিনারি কোপা আমেরিকা ফাইনালে খেলেও মেসির হাতে চ্যাম্পিয়নের ট্রফি ওঠেনি!

Facebook Comments